অক্টোপাসের আছে তিনটি হৃৎপিণ্ড আর নীল রক্ত!
অক্টোপাসের একটি নয়, তিনটি হৃৎপিণ্ড—আর রক্তের রং নীল! কেন এমন অদ্ভুত গঠন, তার পেছনের চমকপ্রদ বিজ্ঞান সহজ ভাষায় জেনে নিন।
সমুদ্রের গভীরে বাস করা অক্টোপাস এমনিতেই রহস্যময় প্রাণী—আট হাত, রং বদলানোর ক্ষমতা, অবিশ্বাস্য বুদ্ধিমত্তা। কিন্তু এর সবচেয়ে অবাক করা দিকটি লুকিয়ে আছে শরীরের ভেতরে। অক্টোপাসের একটি নয়, তিনটি হৃৎপিণ্ড! শুধু তা-ই নয়, তার রক্তের রং আমাদের মতো লাল নয়, বরং নীল।
শুনতে যেন কল্পবিজ্ঞান, কিন্তু এটি বাস্তব। চলুন জেনে নিই এর পেছনের কারণ।
তিনটি হৃৎপিণ্ড কেন
অক্টোপাসের তিনটি হৃৎপিণ্ডের প্রত্যেকটির আলাদা কাজ আছে। দুটি হৃৎপিণ্ড—যাদের বলা হয় ব্রাঙ্কিয়াল হার্ট—কাজ করে শুধু ফুলকার সঙ্গে। এরা রক্তকে দুটি ফুলকায় পাঠায়, যেখানে রক্ত অক্সিজেন গ্রহণ করে।
তৃতীয় হৃৎপিণ্ড—সিস্টেমিক হার্ট—এই অক্সিজেনযুক্ত রক্তকে সারা শরীরে পাঠায়। অর্থাৎ একটি হৃৎপিণ্ড পুরো শরীর সামলায়, আর বাকি দুটি শুধু শ্বাস-প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এই ব্যবস্থা অক্টোপাসের জন্য খুবই দরকারি।
রক্ত নীল কেন
আমাদের রক্ত লাল, কারণ এতে থাকে লোহাযুক্ত হিমোগ্লোবিন, যা অক্সিজেন বহন করে। কিন্তু অক্টোপাসের রক্তে অক্সিজেন বহন করে ভিন্ন একটি যৌগ—হিমোসায়ানিন, যার ভিত্তি তামা (কপার)।
তামাভিত্তিক এই যৌগ অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হলে রক্ত নীলচে রং ধারণ করে। ঠান্ডা ও কম অক্সিজেনযুক্ত গভীর সমুদ্রের পরিবেশে এই হিমোসায়ানিন লোহাভিত্তিক রক্তের চেয়ে বেশি কার্যকরভাবে অক্সিজেন বহন করতে পারে।
সিস্টেমিক হৃৎপিণ্ডের মজার ব্যাপার
আরও একটি কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য আছে। অক্টোপাস যখন সাঁতার কাটে, তখন তার মূল সিস্টেমিক হৃৎপিণ্ডটি কিছুক্ষণের জন্য থেমে যায়! এ কারণে সাঁতার তাদের জন্য বেশ ক্লান্তিকর।
এই ক্লান্তি এড়াতে অক্টোপাস সাধারণত সাঁতারের বদলে হেঁটে চলাফেরা করতেই বেশি পছন্দ করে। প্রকৃতির এই ছোট ছোট সমন্বয়ই প্রতিটি প্রাণীকে তার পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
শেষ কথা
তিনটি হৃৎপিণ্ড, নীল রক্ত আর সাঁতারের সময় থেমে যাওয়া হৃৎপিণ্ড—অক্টোপাস সত্যিই প্রকৃতির এক বিস্ময়। এই অদ্ভুত গঠনগুলো কোনো খেয়ালখুশি নয়, বরং গভীর সমুদ্রের কঠিন পরিবেশে টিকে থাকার নিখুঁত কৌশল। প্রকৃতি যে কত বিচিত্র উপায়ে জীবন গড়ে তোলে, অক্টোপাস তার এক জীবন্ত উদাহরণ।
সমুদ্রের আর কোন প্রাণী নিয়ে জানতে চান? কমেন্টে জানান।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও বিভিন্ন সামুদ্রিক জীববিজ্ঞান প্রতিবেদন
প্রতিদিনের চারপাশের কৌতূহল আর প্রকৃতির রহস্য সহজ বাংলায় তুলে ধরাই আমাদের কাজ। নতুন কিছু জানতে সঙ্গে থাকুন।