ফ্ল্যামিঙ্গো পাখি গোলাপি হয় কেন—আসল কারণ অবাক করার মতো
ফ্ল্যামিঙ্গো জন্মায় ধূসর রঙে, অথচ বড় হয়ে হয় গোলাপি! এর পেছনে আছে তাদের খাবারের এক চমকপ্রদ রসায়ন। জেনে নিন আসল কারণ।
লম্বা পা, বাঁকানো গলা আর উজ্জ্বল গোলাপি রং—ফ্ল্যামিঙ্গো পাখি দেখতে যেন প্রকৃতির আঁকা এক ছবি। কিন্তু আপনি কি জানেন, ফ্ল্যামিঙ্গো জন্মের সময় মোটেও গোলাপি থাকে না? জন্মের সময় এদের রং থাকে ধূসর বা সাদাটে। তাহলে এই গোলাপি রং আসে কোথা থেকে? উত্তরটা লুকিয়ে আছে এদের খাবারে।
চলুন জেনে নিই ফ্ল্যামিঙ্গোর রঙের রহস্য।
রং আসে খাবার থেকে
ফ্ল্যামিঙ্গোর গোলাপি রঙের পেছনে আছে তাদের খাবার। এরা প্রধানত খায় ছোট ছোট শৈবাল, চিংড়িজাতীয় জলজ প্রাণী আর কিছু ক্ষুদ্র জীব। এসব খাবারে থাকে একধরনের প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ, যার নাম ক্যারোটিনয়েড।
এই ক্যারোটিনয়েডই গাজর বা টমেটোকে কমলা-লাল রং দেয়। ফ্ল্যামিঙ্গো যখন এসব খাবার খায়, তখন তাদের শরীর এই রঞ্জক পদার্থ শোষণ করে এবং তা ধীরে ধীরে পালকে জমা হয়ে গোলাপি রং তৈরি করে।
যত বেশি খাবার, তত গাঢ় রং
মজার ব্যাপার হলো, একটি ফ্ল্যামিঙ্গো কতটা গোলাপি হবে, তা নির্ভর করে সে কতটা ক্যারোটিনয়েডযুক্ত খাবার খাচ্ছে তার ওপর। যে ফ্ল্যামিঙ্গো বেশি পরিমাণে এ ধরনের খাবার পায়, তার রং হয় গাঢ় ও উজ্জ্বল গোলাপি।
অন্যদিকে কম খাবার পাওয়া ফ্ল্যামিঙ্গোর রং হয় ফ্যাকাশে। অর্থাৎ একটি ফ্ল্যামিঙ্গোর উজ্জ্বল রং আসলে তার সুস্থতা ও ভালো খাওয়াদাওয়ার প্রমাণ।
রং আর সঙ্গী বাছাই
প্রকৃতিতে এই উজ্জ্বল রঙের একটি বাড়তি ভূমিকাও আছে। গবেষকেরা লক্ষ্য করেছেন, ফ্ল্যামিঙ্গোরা সঙ্গী বাছাইয়ের সময় উজ্জ্বল রঙের সঙ্গীকে বেশি পছন্দ করে।
কারণ গাঢ় গোলাপি রং বুঝিয়ে দেয় যে পাখিটি সুস্থ, সবল এবং ভালো খাবার সংগ্রহে দক্ষ। তাই কখনো কখনো ফ্ল্যামিঙ্গো বেশি খাবার খেয়ে নিজেদের রং আরও উজ্জ্বল করে তোলে। প্রকৃতির এই খেলা সত্যিই চমৎকার।
শেষ কথা
ফ্ল্যামিঙ্গোর গোলাপি রং কোনো জন্মগত উপহার নয়, বরং তাদের খাবারের ফল—এটি প্রকৃতির এক সুন্দর রসায়ন। আমরা যা খাই, তা আমাদের শরীরে ছাপ ফেলে—ফ্ল্যামিঙ্গো যেন তারই এক রঙিন উদাহরণ। প্রকৃতির সাধারণ দৃশ্যের পেছনেও যে কত বিজ্ঞান লুকিয়ে থাকে, এই গোলাপি পাখি তার প্রমাণ।
পাখি বা প্রাণী নিয়ে আর কোন মজার তথ্য জানতে চান? কমেন্টে জানান।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও বিভিন্ন প্রাণীবিজ্ঞান প্রতিবেদন
প্রতিদিনের চারপাশের কৌতূহল আর প্রকৃতির রহস্য সহজ বাংলায় তুলে ধরাই আমাদের কাজ। নতুন কিছু জানতে সঙ্গে থাকুন।