বজ্রপাত সূর্যের পৃষ্ঠের চেয়েও বেশি গরম!
এক ঝলক বজ্রপাতের তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি! কীভাবে এত গরম হয় আর বজ্রপাতে শব্দ হয় কেন—জেনে নিন।
আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো আমাদের সবার পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এই কয়েক সেকেন্ডের ঝলকের ভেতরে যে কী পরিমাণ শক্তি লুকিয়ে থাকে, তা জানলে অবাক হবেন। একটি বজ্রপাতের ভেতরের তাপমাত্রা সূর্যের পৃষ্ঠের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি গরম হতে পারে! শুনতে অবিশ্বাস্য, কিন্তু এটিই বিজ্ঞান।
চলুন জেনে নিই এই বিস্ময়কর তথ্যের পেছনের কারণ।
কত গরম হয় বজ্রপাত
একটি বজ্রপাতের ভেতরের বাতাস মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উত্তপ্ত হতে পারে। অন্যদিকে সূর্যের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অর্থাৎ এক ঝলক বজ্রপাত সূর্যের পৃষ্ঠের চেয়েও প্রায় পাঁচ গুণ বেশি গরম! অবশ্য এই প্রচণ্ড তাপ স্থায়ী হয় মাত্র এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশ, তবু সেই মুহূর্তের শক্তি অকল্পনীয়।
এত গরম হয় কীভাবে
বজ্রপাত আসলে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের আকস্মিক প্রবাহ। মেঘের ভেতর জমে থাকা বিশাল বৈদ্যুতিক চার্জ যখন হঠাৎ মাটি বা অন্য মেঘের দিকে ছুটে যায়, তখন তা সরু একটি পথ দিয়ে অবিশ্বাস্য গতিতে প্রবাহিত হয়।
এই বিপুল বিদ্যুৎ যখন বাতাসের ভেতর দিয়ে যায়, তখন বাতাসের অণুগুলোর সঙ্গে প্রবল ঘর্ষণে মুহূর্তেই তীব্র তাপ তৈরি হয়। এই তাপেই বজ্রপাতের পথ এতটা উত্তপ্ত হয়ে ঝলমলে আলো ছড়ায়।
বজ্রপাতে শব্দ হয় কেন
বজ্রপাতের সঙ্গে যে বিকট গর্জন শুনি, তারও কারণ এই প্রচণ্ড তাপ। বজ্রপাতের পথের বাতাস হঠাৎ এত গরম হয়ে যায় যে তা বিদ্যুৎগতিতে প্রসারিত হয়ে চারপাশে ধাক্কা দেয়।
বাতাসের এই আকস্মিক ও প্রবল প্রসারণই শব্দতরঙ্গ তৈরি করে, যা আমরা মেঘের গর্জন হিসেবে শুনি। যেহেতু আলো শব্দের চেয়ে দ্রুত চলে, তাই আমরা আগে বিদ্যুৎ দেখি, পরে গর্জন শুনি।
শেষ কথা
আকাশের এক ঝলক বিদ্যুৎ আসলে প্রকৃতির এক বিস্ময়কর শক্তির প্রদর্শন—সূর্যের চেয়েও গরম, অথচ স্থায়ী মাত্র এক পলক। প্রকৃতির এই বিপুল শক্তিকে সম্মান করা জরুরি; তাই বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে নিরাপদে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রকৃতির এই শক্তির প্রতি সতর্কতাও দরকার।
প্রকৃতির আর কোন শক্তি নিয়ে জানতে চান? কমেন্টে জানান।
সূত্র: বিভিন্ন আবহাওয়া ও পদার্থবিজ্ঞান প্রতিবেদন
প্রতিদিনের চারপাশের কৌতূহল আর প্রকৃতির রহস্য সহজ বাংলায় তুলে ধরাই আমাদের কাজ। নতুন কিছু জানতে সঙ্গে থাকুন।