মৌমাছিরা নাচ দিয়ে একে অপরের সঙ্গে কথা বলে!
মৌমাছিরা ভাষা নয়, নাচ দিয়ে একে অপরকে খাবারের ঠিকানা জানিয়ে দেয়! 'ওয়্যাগল ডান্স' নামের এই অবিশ্বাস্য যোগাযোগব্যবস্থা জেনে নিন।
একটি মৌমাছি যখন ফুলে ভরা কোনো জায়গা খুঁজে পায়, তখন সে কীভাবে বাকি মৌমাছিদের সেই ঠিকানা জানায়? তাদের তো আমাদের মতো ভাষা নেই। অথচ কিছুক্ষণের মধ্যেই দল বেঁধে অন্য মৌমাছিরা ঠিক সেই জায়গায় পৌঁছে যায়। এর পেছনে আছে প্রকৃতির এক অবিশ্বাস্য কৌশল—নাচ! হ্যাঁ, মৌমাছিরা নাচ দিয়েই একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
চলুন জেনে নিই এই বিস্ময়কর ‘নাচের ভাষা’।
ওয়্যাগল ডান্স কী
একটি মৌমাছি যখন ভালো খাবারের উৎস খুঁজে মৌচাকে ফিরে আসে, তখন সে অন্যদের সামনে একধরনের বিশেষ নাচ করে, যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘ওয়্যাগল ডান্স’। এই নাচে মৌমাছিটি একটি নির্দিষ্ট পথে শরীর দুলিয়ে দুলিয়ে চলে এবং আট-এর আকৃতিতে ঘুরতে থাকে।
এই নাচ দেখে মৌচাকের অন্য মৌমাছিরা বুঝে নেয় খাবার কোন দিকে এবং কত দূরে আছে। অর্থাৎ নাচটি আসলে একটি জীবন্ত মানচিত্রের মতো কাজ করে।
দিক ও দূরত্ব বোঝায় যেভাবে
মৌমাছির এই নাচ আশ্চর্য রকম নিখুঁত। নাচের সময় মৌমাছিটি যে কোণে শরীর দোলায়, তা সূর্যের অবস্থানের সঙ্গে মিলিয়ে খাবারের দিক বোঝায়। অর্থাৎ সূর্যকে নির্দেশক ধরে মৌমাছি দিক নির্দেশ করে।
আর নাচের সময় শরীর দোলানোর স্থায়িত্ব বা সময় বোঝায় খাবার কত দূরে আছে—যত বেশিক্ষণ দোলায়, খাবার তত দূরে। এই দুই তথ্য মিলিয়ে অন্য মৌমাছিরা সরাসরি সঠিক জায়গায় উড়ে যেতে পারে।
এক বিজ্ঞানীর বড় আবিষ্কার
মৌমাছির এই নাচের ভাষা আবিষ্কার করেন অস্ট্রিয়ার বিজ্ঞানী কার্ল ফন ফ্রিশ। বহু বছর ধরে মৌমাছিদের পর্যবেক্ষণ করে তিনি প্রমাণ করেন, এই নাচ কোনো এলোমেলো নড়াচড়া নয়, বরং নিখুঁত একটি যোগাযোগব্যবস্থা।
এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তিনি বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ সম্মানগুলোর একটিও পান। এটি প্রমাণ করে, ক্ষুদ্র একটি পতঙ্গের আচরণও কত গভীর বিজ্ঞান ধারণ করতে পারে।
শেষ কথা
মৌমাছির নাচের ভাষা প্রকৃতির সবচেয়ে বিস্ময়কর যোগাযোগব্যবস্থাগুলোর একটি। মানুষের ভাষা না থাকলেও এই ক্ষুদ্র প্রাণীরা নিখুঁতভাবে তথ্য আদান-প্রদান করে, দল বেঁধে কাজ করে আর টিকে থাকে। পরের বার কোনো মৌমাছি দেখলে মনে রাখবেন—সে হয়তো এইমাত্র কাউকে খাবারের ঠিকানা ‘নাচিয়ে’ জানিয়ে এসেছে।
প্রকৃতির আর কোন যোগাযোগ নিয়ে জানতে চান? কমেন্টে জানান।
সূত্র: বিভিন্ন প্রাণীবিজ্ঞান ও গবেষণা প্রতিবেদন
প্রতিদিনের চারপাশের কৌতূহল আর প্রকৃতির রহস্য সহজ বাংলায় তুলে ধরাই আমাদের কাজ। নতুন কিছু জানতে সঙ্গে থাকুন।