১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ • ঢাকা আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ নিউজলেটার
সাবস্ক্রাইব
হোম সম্পর্ক ও পরিবার
সম্পর্ক ও পরিবার

সন্তানকে মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখবেন যেভাবে

বকাঝকা নয়, কয়েকটি কৌশলেই সন্তানকে স্ক্রিন থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব—অভিভাবকদের জন্য মোবাইল আসক্তি কমানোর ব্যবহারিক গাইড।

জানাশোনা ডেস্ক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ • ৩ মিনিট পড়া
সন্তানের মোবাইল আসক্তি

খাওয়ার টেবিলে, ঘুমানোর আগে, এমনকি খেলার সময়ও শিশুর হাতে মোবাইল—আজকের অনেক পরিবারেই এটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। অতিরিক্ত স্ক্রিন শিশুর চোখ, ঘুম, মনোযোগ এমনকি আচরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু শুধু বকাঝকা বা জোর করে মোবাইল কেড়ে নিলে সমস্যা কমে না, অনেক সময় বরং বাড়ে।

আসল সমাধান লুকিয়ে আছে কয়েকটি ধৈর্যশীল কৌশলে, যেখানে নিষেধের বদলে গুরুত্ব পায় বিকল্প ও অভ্যাস। আসুন জেনে নিই, সন্তানকে স্ক্রিন থেকে সরিয়ে আনার বাস্তব উপায়।

আগে নিজেদের অভ্যাস দেখুন

শিশু শেখে অনুকরণ করে। বাবা-মা যদি সারাক্ষণ মোবাইলে ডুবে থাকেন, তবে সন্তানকে মোবাইল থেকে দূরে রাখার কথা বলা কঠিন। তাই পরিবর্তনটা শুরু করতে হবে নিজেদের দিয়ে।

বাসায় অন্তত কিছু সময় ‘মোবাইলমুক্ত’ রাখুন—যেমন খাবার টেবিল বা ঘুমানোর আগের সময়। শিশু যখন দেখবে পুরো পরিবারই ফোন সরিয়ে রেখেছে, তখন তার কাছেও নিয়মটি স্বাভাবিক মনে হবে। উপদেশের চেয়ে উদাহরণ অনেক বেশি কাজ করে।

স্পষ্ট নিয়ম ঠিক করুন

স্ক্রিন নিয়ে পরিবারে কিছু পরিষ্কার নিয়ম থাকা দরকার, এবং তা ধারাবাহিকভাবে মেনে চলতে হবে। যেমন—দিনে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি মোবাইল নয়, পড়ার সময় বা খাওয়ার সময় ফোন নয়, রাতে ঘুমানোর আগে স্ক্রিন বন্ধ।

নিয়ম ঠিক করার সময় সম্ভব হলে সন্তানের মতামতও নিন; এতে সে নিয়মটিকে নিজের বলে মানবে। তবে একবার নিয়ম ঠিক হলে তা সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য রাখুন, যাতে শিশু একে অন্যায় না ভাবে।

আকর্ষণীয় বিকল্প দিন

শিশু মোবাইলে ঝোঁকে মূলত যখন তার হাতে করার মতো অন্য কিছু থাকে না। তাই নিষেধ করার আগে ভাবুন, বদলে তাকে কী দিচ্ছেন। খেলাধুলা, বই, ছবি আঁকা, ঘরের ছোট কাজে অংশগ্রহণ কিংবা বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা—এসব আকর্ষণীয় বিকল্প তৈরি করুন।

পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে সময় কাটানো, গল্প বলা বা বোর্ড গেম খেলা শিশুকে স্ক্রিনের চেয়ে বেশি আনন্দ দিতে পারে। মনে রাখবেন, শিশুর আসল চাহিদা মনোযোগ ও সঙ্গ; মোবাইল প্রায়ই সেই শূন্যতা পূরণের সহজ উপায় হয়ে দাঁড়ায়।

রাগ নয়, ধৈর্য

হঠাৎ মোবাইল কেড়ে নিলে বা ধমক দিলে শিশু জেদি হয়ে ওঠে, কান্নাকাটি করে, কখনো লুকিয়ে ব্যবহার শুরু করে। পরিবর্তন আনতে হবে ধীরে ধীরে। একবারে সব বন্ধ না করে স্ক্রিন সময় ধাপে ধাপে কমান।

শিশু নিয়ম মানলে তার প্রশংসা করুন; ইতিবাচক উৎসাহ শাস্তির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। আর কেন এই নিয়ম, সেটিও তার বয়স অনুযায়ী সহজভাবে বুঝিয়ে বলুন—জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেয়ে বুঝিয়ে বলা বেশি টেকসই।

প্রযুক্তিকে শত্রু না বানিয়ে

মোবাইল বা ইন্টারনেট পুরোপুরি খারাপ নয়; এতে শেখারও অনেক উপাদান আছে। লক্ষ্য আসক্তি ঠেকানো, প্রযুক্তিকে শত্রু বানানো নয়। তাই শিশুকে শেখান কীভাবে মোবাইলকে কাজে লাগানো যায়—শিক্ষামূলক ভিডিও, নতুন কিছু শেখা বা সৃজনশীল কাজে।

ব্যবহার আর অপব্যবহারের পার্থক্যটা ছোটবেলা থেকেই বুঝিয়ে দিলে শিশু বড় হয়ে প্রযুক্তির সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়তে শেখে।

শেষ কথা

সন্তানকে মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখা এক দিনের কাজ নয়, এটি ধৈর্য ও ধারাবাহিকতার বিষয়। নিজেরা উদাহরণ হওয়া, স্পষ্ট নিয়ম, আকর্ষণীয় বিকল্প আর ভালোবাসাময় ধৈর্য—এই পথেই পরিবর্তন আসে। শিশুকে স্ক্রিন থেকে সরাতে হলে তাকে দিতে হবে এমন কিছু, যা স্ক্রিনের চেয়েও আনন্দের—আর সেটি বেশিরভাগ সময়ই আপনার সঙ্গ ও সময়।

সন্তানের স্ক্রিন টাইম কমাতে আপনার পরিবারে কোন কৌশলটি কাজে দিয়েছে? কমেন্টে জানান।

প্যারেন্টিং মোবাইল আসক্তি লাইফস্টাইল শিশু স্ক্রিন টাইম
জানাশোনা ডেস্ক

প্রতিদিনের চারপাশের কৌতূহল আর প্রকৃতির রহস্য সহজ বাংলায় তুলে ধরাই আমাদের কাজ। নতুন কিছু জানতে সঙ্গে থাকুন।

সম্পর্কিত লেখা

দূরে থেকেও বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখবেন যেভাবে
সম্পর্ক ও পরিবার

দূরে থেকেও বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখবেন যেভাবে

৩ মিনিট পড়া
বিয়ের আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা জরুরি
সম্পর্ক ও পরিবার

বিয়ের আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা জরুরি

৩ মিনিট পড়া
যৌথ পরিবারে মানিয়ে চলার বাস্তব কৌশল
সম্পর্ক ও পরিবার

যৌথ পরিবারে মানিয়ে চলার বাস্তব কৌশল

৩ মিনিট পড়া

প্রতিদিন নতুন কিছু জানুন

সপ্তাহে একবার, সেরা লেখাগুলো সরাসরি আপনার ইনবক্সে। স্প্যাম নেই।