১৪ অক্টোবর ২০২৬ • ঢাকা আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ নিউজলেটার
সাবস্ক্রাইব
হোম ›স্বাস্থ্য
স্বাস্থ্য

নবজাতকের যত্নে নতুন বাবা-মায়ের জানা জরুরি বিষয়গুলো

নতুন বাবা-মায়ের জন্য নবজাতকের যত্নের প্রাথমিক বিষয়গুলো—খাওয়ানো, ঘুম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সতর্কতা—সহজ ভাষায় জেনে নিন।

জ
জানাশোনা স্বাস্থ্য ডেস্ক
২০ মে ২০২৬ • ৩ মিনিট পড়া
Edited with https://edit-online.com

একটি নতুন শিশুর আগমন পরিবারে আনে অপার আনন্দ, সঙ্গে কিছুটা দুশ্চিন্তাও—বিশেষ করে নতুন বাবা-মায়ের কাছে। ছোট্ট এই প্রাণটির যত্ন কীভাবে নেবেন, সেই ভাবনা স্বাভাবিক। তবে কয়েকটি মৌলিক বিষয় জানা থাকলে নবজাতকের যত্ন অনেক সহজ ও স্বস্তিদায়ক হয়ে ওঠে।

আসুন জেনে নিই নবজাতকের যত্নের প্রাথমিক কিছু বিষয়। (প্রতিটি শিশু আলাদা; নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সংশয় হলে অবশ্যই শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)

খাওয়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

নবজাতকের জন্য মায়ের বুকের দুধই সবচেয়ে উত্তম ও সম্পূর্ণ খাবার। চিকিৎসকেরা সাধারণত জন্মের প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেন, কারণ এতে শিশুর প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে।

নবজাতক ঘন ঘন, অল্প অল্প করে খায়—তাই চাহিদা অনুযায়ী খাওয়ানোই ভালো। খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে নিয়ে আলতো করে পিঠ চাপড়ে ঢেকুর তোলানো জরুরি, এতে পেটের অস্বস্তি কমে। দুধ খাওয়ানো নিয়ে কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিন।

ঘুম ও আরামদায়ক পরিবেশ

নবজাতক দিনের বেশিরভাগ সময়ই ঘুমিয়ে কাটায়, আর এই ঘুম তার বৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। শিশুকে ঘুম পাড়ানোর সময় খেয়াল রাখুন, তার বিছানা যেন নরম-নিরাপদ হয় এবং মুখের ওপর যেন আলগা কাপড় বা বালিশ না থাকে।

ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখুন—খুব গরম বা খুব ঠান্ডা নয়। শিশুকে আবহাওয়া অনুযায়ী পোশাক পরান; অতিরিক্ত কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা ভালো নয়। শান্ত, নরম আলোর পরিবেশ শিশুর ভালো ঘুমে সাহায্য করে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

নবজাতকের ত্বক ও শরীর খুবই কোমল, তাই পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি যত্ন দরকার। ডায়াপার বা ন্যাপি নিয়মিত বদলান এবং প্রতিবার আলতো করে পরিষ্কার করে শুকিয়ে দিন, যাতে র‍্যাশ না হয়। ভেজা অবস্থায় বেশিক্ষণ রাখলে ত্বকে সমস্যা হতে পারে।

শিশুকে গোসল করানোর সময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন এবং খুব অল্প সময়ে আলতোভাবে করান। নাভির যত্নে শুকনো ও পরিষ্কার রাখা জরুরি। শিশুকে স্পর্শের আগে হাত ধুয়ে নেওয়া সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে।

টিকা ও নিয়মিত চেকআপ

শিশুকে নানা রোগ থেকে রক্ষা করতে সময়মতো টিকা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন্মের পর থেকেই নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী টিকার একটি সূচি থাকে; এটি মেনে চলা শিশুর সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য জরুরি।

পাশাপাশি নিয়মিত শিশু চিকিৎসকের কাছে চেকআপে নিয়ে যান, যাতে শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ ঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়। কোনো সমস্যা থাকলে আগেভাগে ধরা পড়ে।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন

নবজাতকের কিছু লক্ষণে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। যেমন—শিশুর জ্বর, ঠিকমতো দুধ না খাওয়া, অস্বাভাবিক নিস্তেজ থাকা, শ্বাস নিতে কষ্ট, একটানা কান্না কিংবা শরীরের রং হলদে হয়ে যাওয়া।

নতুন বাবা-মা হিসেবে কোনো বিষয়ে অনিশ্চিত হলে দ্বিধা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শিশুর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা সব সময়ই ভালো।

শেষ কথা

নবজাতকের যত্ন প্রথমে কঠিন মনে হলেও কয়েকটি মৌলিক বিষয়—সঠিক খাওয়ানো, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিচ্ছন্নতা আর সময়মতো টিকা—জানা থাকলে তা অনেক সহজ হয়ে যায়। ধৈর্য, ভালোবাসা আর প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ—এই তিনই নতুন বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় সহায়। প্রতিটি শিশু আলাদা, তাই নিজের শিশুকে বুঝে নিতে নিতেই আপনি ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন।

নতুন বাবা-মা হিসেবে কোন বিষয়টি আপনার কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মনে হয়? কমেন্টে জানান।

দ্রষ্টব্য: এটি সাধারণ তথ্যমূলক লেখা, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। শিশুর স্বাস্থ্য বিষয়ে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নবজাতক প্যারেন্টিং মা ও শিশু
জ
জানাশোনা স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রতিদিনের চারপাশের কৌতূহল আর প্রকৃতির রহস্য সহজ বাংলায় তুলে ধরাই আমাদের কাজ। নতুন কিছু জানতে সঙ্গে থাকুন।

সম্পর্কিত লেখা

সুষম খাবার আসলে কী, প্লেট সাজাবেন যেভাবে
স্বাস্থ্য

সুষম খাবার আসলে কী, প্লেট সাজাবেন যেভাবে

৩ মিনিট পড়া
ভাত খেলে মোটা হয়—কথাটা আসলে কতটা সত্যি
স্বাস্থ্য

ভাত খেলে মোটা হয়—কথাটা আসলে কতটা সত্যি

৬ মিনিট পড়া
দুশ্চিন্তা কমিয়ে মন শান্ত রাখার সহজ উপায়
স্বাস্থ্য

দুশ্চিন্তা কমিয়ে মন শান্ত রাখার সহজ উপায়

৪ মিনিট পড়া

প্রতিদিন নতুন কিছু জানুন

সপ্তাহে একবার, সেরা লেখাগুলো সরাসরি আপনার ইনবক্সে। স্প্যাম নেই।