বর্ষায় ঘর স্যাঁতসেঁতে ও দুর্গন্ধ? দূর করার ৮টি সহজ উপায়
বর্ষায় ঘর স্যাঁতসেঁতে আর গুমোট গন্ধে অতিষ্ঠ? ঘরোয়া উপায়ে আর্দ্রতা ও দুর্গন্ধ দূর করার ৮টি সহজ কৌশল জেনে নিন।
বর্ষা এলেই দেয়াল ঘেমে ওঠে, আলমারির কাপড়ে গুমোট গন্ধ লাগে, আর ঘরের কোণে কোণে জমে স্যাঁতসেঁতে ভাব। বাইরে টানা বৃষ্টি থাকলে জানালা খোলা যায় না, ফলে ঘরের বাতাস আটকে থেকে আর্দ্রতা আরও বেড়ে যায়। এই আর্দ্রতাই ছত্রাক, পোকামাকড় আর বিরক্তিকর দুর্গন্ধের আসল কারণ।
ভালো খবর হলো, দামি যন্ত্র বা মেশিন ছাড়াই হাতের কাছের কিছু জিনিস দিয়ে ঘরকে শুকনো ও তরতাজা রাখা যায়। নিচের কৌশলগুলো একসঙ্গে কাজে লাগালে পুরো বর্ষাজুড়ে ঘর থাকবে ঝরঝরে।
১. ঘরে বাতাস চলাচলের সুযোগ দিন
আর্দ্রতা জমার প্রধান কারণ আটকে থাকা বাতাস। বৃষ্টি একটু থামলেই বিপরীত দিকের জানালা-দরজা খুলে দিন, যাতে ক্রস ভেন্টিলেশন বা আড়াআড়ি বাতাস চলাচল করতে পারে। রান্নাঘর ও বাথরুমে এক্সহস্ট ফ্যান থাকলে ব্যবহার করুন, না থাকলে কাজের পর কিছুক্ষণ সিলিং ফ্যান চালিয়ে রাখুন।
২. ভেজা কাপড় ঘরের ভেতরে শুকাবেন না
বর্ষায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতরে কাপড় মেলেন। কিন্তু একটি ভেজা কাপড় বাতাসে কয়েক লিটার পর্যন্ত আর্দ্রতা ছাড়তে পারে। সম্ভব হলে বারান্দা বা ছাদের নিচে শুকান, নয়তো ফ্যানের নিচে আলাদা একটি ঘরে দরজা বন্ধ করে শুকিয়ে নিন।
৩. আলমারিতে দিন কর্পূর বা সিলিকা জেল
কাপড়ে গুমোট গন্ধের জন্য দায়ী আর্দ্রতা। আলমারির কোণে কয়েকটি কর্পূরের টুকরো, কয়েক প্যাকেট সিলিকা জেল (নতুন জুতা বা ব্যাগের সঙ্গে আসা ছোট প্যাকেটগুলো জমিয়ে রাখুন), অথবা শুকনো নিমপাতা রেখে দিন। এগুলো বাড়তি আর্দ্রতা টেনে নেয় এবং পোকা দূরে রাখে।
৪. বেকিং সোডা — সস্তা আর্দ্রতা শোষক
একটি খোলা বাটিতে কিছু বেকিং সোডা নিয়ে আলমারি, জুতার তাক বা ঘরের স্যাঁতসেঁতে কোণে রেখে দিন। বেকিং সোডা আর্দ্রতা ও দুর্গন্ধ দুটোই শুষে নেয়। প্রতি দুই-তিন সপ্তাহ পর পাল্টে দিন।
৫. লেবু ও লবঙ্গে প্রাকৃতিক সুগন্ধ
একটি লেবু অর্ধেক কেটে তাতে কয়েকটি লবঙ্গ গেঁথে ঘরের কোণে রাখলে কৃত্রিম এয়ার ফ্রেশনার ছাড়াই ঘর সতেজ থাকে। রান্নাঘরের গন্ধ কাটাতেও এটি দারুণ কাজ করে।
৬. মেঝে মুছুন হালকা জীবাণুনাশক দিয়ে
ভেজা মেঝে দ্রুত শুকিয়ে নিন এবং মোছার পানিতে সামান্য জীবাণুনাশক বা কয়েক ফোঁটা ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এতে ছত্রাকের বিস্তার কমে এবং মেঝে থেকে আসা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ দূর হয়।
৭. দেয়ালের ফাটল ও স্যাঁতা দাগে নজর দিন
দেয়ালে কালচে-সবুজ ছোপ মানেই সেখানে ছত্রাক জন্মাচ্ছে। জায়গাটি শুকনো কাপড়ে মুছে অল্প ব্লিচ-পানির মিশ্রণ লাগিয়ে পরিষ্কার করুন। পানির পাইপ বা ছাদ থেকে চুঁইয়ে পড়া পানি থাকলে দ্রুত মেরামত করান, কারণ এটিই দীর্ঘমেয়াদি স্যাঁতার মূল উৎস।
৮. ঘরে রাখুন আর্দ্রতাপ্রিয় কিছু গাছ
কিছু ইনডোর গাছ যেমন স্পাইডার প্ল্যান্ট, পিস লিলি বা অ্যারিকা পাম বাতাস থেকে বাড়তি আর্দ্রতা ও দূষণ টেনে নিয়ে ঘরের পরিবেশ স্বস্তিদায়ক রাখে। তবে টবের নিচে যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
শেষ কথা
বর্ষায় ঘর শুকনো রাখার মূল মন্ত্র দুটি — বাতাস চলতে দিন আর আর্দ্রতা জমতে দেবেন না। উপরের অভ্যাসগুলো নিয়মিত মেনে চললে ছত্রাক, দুর্গন্ধ আর স্যাঁতসেঁতে ভাব—তিনটিই অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ছোট ছোট এই অভ্যাসই পুরো বর্ষাকে আরামদায়ক করে তুলবে।
আপনার বর্ষাকালের ঘর গোছানোর কোন কৌশলটি সবচেয়ে কাজে দেয়? কমেন্টে জানান।
প্রতিদিনের চারপাশের কৌতূহল আর প্রকৃতির রহস্য সহজ বাংলায় তুলে ধরাই আমাদের কাজ। নতুন কিছু জানতে সঙ্গে থাকুন।



